নিজস্ব প্রতিবেদক
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখম পর্যন্ত চার জন বাংলাদেশি শহীদ হয়েছেন। এই ৪ জনের মধ্যে বাহরাইনে ১ জন, দুবাইয়ে ১ জন ও সৌদি আরবে ২ জন।
সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-ইসরায়েল হামলায় দুবাইয়ে নিহত মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা আহমদ আলীর লাশ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
লাশ গ্রহণ শেষে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের এ সংকটের শুরু থেকেই যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করাসহ তাদের সংকট নিরসনে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আজকেও আমরা সৌদিতে নিহতদের পরিবারের সাথে কথা বলেছি।
তিনি বলেন, টাংগাইলের যিনি মারা গিয়েছেন তার পরিবারের সাথে কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে হতে তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা এবং সহযোগিতা করা হবে। লাশ যেন পরিবারের কাছে আমরা পৌঁছে দিতে পারি সে বিষয়ে তাদের সাথে কথা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের যিনি মারা গিয়েছেন তার পরিবারের সাথেও আমরা কথা বলেছি। এছাড়া এ পর্যন্ত আমাদের কাছে যে সকল তথ্য আছে তাতে প্রায় ১৪ জনের মত আহত হয়েছেন। তাদেরকে আমাদের সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলো পূর্ণাঙ্গ সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের বাংলাদেশি প্রবাসী ভাইয়েরা যারা মধ্যপ্রাচ্যে আছেন তাদের প্রতি আমাদের একটা আহ্বান থাকবে যতটুকু সম্ভব সংঘাতপূর্ণ এবং বিশেষ করে যে স্থানগুলো আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে সেই সমস্ত এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার জন্য। যখন সতর্কতার সাইরেনসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যে দিকনির্দেশনা দিচ্ছে সেগুলো মেনে চলার। একই সাথে আমরা একটা কথা বলবো, এই দেশগুলোর সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সম্পর্কসহ বাণিজ্যিক বিভিন্ন ধরনের সম্পর্ক আছে, কাজেই ওদের দেশের আইন বিরোধী কোনো কনটেন্ট সোশ্যাল মিডিয়াতে যেন না দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি খুবই হৃদয়বিদারক একটা অবস্থায়। বলার কিছুই নেই, আমরা সব সময় বলে এসেছি যে বাংলাদেশের কাছে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ আমাদের কর্মকর্তারা এবং নিহত আলী আহমেদের পরিবারের সদস্যরা আলী আহমদের লাশ তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় নিয়ে যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু আমাদের নাগরিকদের পাশে থাকা যায় সেটা আমরা করার চেষ্টা করছি।’ এ সময় বিমানবন্দরে নিহতের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।